বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপ ‘জোনাথন’ প্রতারণার শিকার
Published : ১৭:১৬, ২ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলজ প্রাণী হিসেবে খ্যাত ১৯৪ বছর বয়সী বিশাল কচ্ছপ জোনাথনকে নিয়ে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে মৃত্যুর ভুয়া খবর, যা পরবর্তীতে একটি সুপরিকল্পিত ক্রিপ্টো প্রতারণা হিসেবে ধরা পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে জোনাথনের মৃত্যুর কথা প্রচার করা হয় এবং অনুদান চাওয়ার আবেদন যুক্ত করা হয়।
এই ভুয়া পোস্টে জোনাথনের দীর্ঘ জীবনকাল, কলা খাওয়ার অভ্যাস এবং শান্ত স্বভাবের বিষয় উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করা হয়। পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং লাখ লাখ মানুষ এটি দেখে বিভ্রান্ত হয়।
১৯৪৭ সালে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে জোনাথনের সঙ্গে দেখা করেছেন রাজপরিবারের সদস্যরা, যার মধ্যে ছিলেন রাজা ষষ্ঠ জর্জ, প্রিন্সেস এলিজাবেথ (পরবর্তীতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ), প্রিন্সেস মার্গারেট এবং কুইন মাদার। সেই ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিভ্রান্তি আরও বাড়ায়।
পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, ভুয়া অ্যাকাউন্টটি ব্রাজিল থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রকৃত পশুচিকিৎসক জো হলিন্স জানান, তিনি এক্স ব্যবহার করেন না এবং জোনাথন সম্পূর্ণ সুস্থ। তিনি বলেন, এটি কোনো রসিকতা নয়, বরং সরাসরি প্রতারণা।
সেন্ট হেলেনার গভর্নর নাইজেল ফিলিপসও গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর নিজে গিয়ে কচ্ছপটির খোঁজ নেন। তখন জোনাথন গভর্নর হাউসের প্রাঙ্গণে একটি গাছের নিচে নিশ্চিন্তে বিশ্রামরত ছিলেন। পরের দিন জোনাথনের একটি ছবি তোলা হয়, যেখানে তাকে আইপ্যাডের পাশে দেখা যায়—যেখানে খোলা ছিল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট, যেন এটি তার জীবিত থাকার প্রমাণ।
জোনাথনকে ১৮৮২ সালে উপহার হিসেবে সেন্ট হেলেনায় আনা হয়েছিল। তখন থেকে সে গভর্নরের বাসভবনের প্রাঙ্গণে বাস করছে। বয়সের ভারে সে প্রায় অন্ধ, ঘ্রাণশক্তিও অনেকটাই হারিয়েছে, তবে এখনো ক্ষুধা ভালো এবং কলা তার প্রিয় খাবার। দ্বীপ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন ঘাস খাওয়া, রোদে বিশ্রাম নেওয়া এবং নিয়মিত পরিচর্যায় তার দীর্ঘ জীবন বজায় আছে।
ছোট্ট সেন্ট হেলেনার মানুষের কাছে জোনাথন শুধু একটি প্রাণী নয়, এটি এক প্রকার জীবন্ত ইতিহাস। তাই তার মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্বীপজুড়ে উদ্বেগ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বিডি/এএন


































