বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রতিযোগিতা
Published : ১১:১৩, ৪ এপ্রিল ২০২৬
চলমান ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে এসে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও স্থল—দুই ক্ষেত্রেই তীব্র স্নায়ুযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে এখন ওয়াশিংটন ও তেহরান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নেমেছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পেন্টাগনের অসমর্থিত সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এফ-১৫ যুদ্ধবিমানে সাধারণত দুইজন ক্রু থাকেন—একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা। এর মধ্যে একজনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন বিশেষ বাহিনী। তবে অন্য ক্রু সদস্য এখনো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন।
নিখোঁজ ওই সদস্য যাতে ইরানি বাহিনীর হাতে না পড়ে, সে বিষয়ে পেন্টাগন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান ও পাহাড়ি কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের আকাশে মার্কিন সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং ব্ল্যাক হক ও পেভ হক হেলিকপ্টারগুলোকে নিচু উচ্চতায় টহল দিতে দেখা গেছে।
সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, শত্রুপক্ষের ভেতরে এত গভীরে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিচু উচ্চতায় হেলিকপ্টার উড়ানো স্পষ্ট করে যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সেনা উদ্ধারে যেকোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। তবে এই অভিযানে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো ইরানি বাহিনীর গুলির মুখেও পড়েছে এবং পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী এতে কয়েকজন মার্কিন সদস্য আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানও নিখোঁজ ওই মার্কিন ক্রুকে জীবিত বা মৃত যেভাবেই হোক নিজেদের হেফাজতে নিতে বদ্ধপরিকর। কারণ, একজন মার্কিন সেনাকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে দেখাতে পারলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও গণমাধ্যম সাধারণ নাগরিকদেরও এই অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এক উপস্থাপক সরাসরি সম্প্রচারে ঘোষণা দেন, শত্রু পাইলটকে জীবিত ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দিলে দেওয়া হবে সরকারি পুরস্কার। এমনকি দেশটির এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীও ওই ক্রুকে জীবিত ধরতে পারলে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে এই প্রথমবারের মতো মার্কিন বিমানবাহিনীর কোনো মানববাহী যুদ্ধবিমান ইরানের মূল ভূখণ্ডে ভূপাতিত হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা ইরানের আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পতন সেই দাবিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বিডি/এএন


































