ইসফাহানে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি তেহরানের
Published : ১৪:৫০, ৪ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান আকাশযুদ্ধে ইরান একের পর এক চমক দেখাচ্ছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দেশটির ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানের সংবেদনশীল আকাশসীমায় প্রবেশ করা মার্কিন ‘এমকিউ-১ প্রিডেটর’ অ্যাটাক ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান।
ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের নিজস্ব উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করেছে।
এর আগে শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এফ-১৫-ই স্ট্রাইক ইগল’ যুদ্ধবিমান আইআরজিসির হাতে বিধ্বস্ত হয়। একই দিনে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন ‘এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু’ যুদ্ধবিমানও ইরানি সেনাদের নিখুঁত নিশানায় ভূপাতিত হয়। তবে পাইলটটি চরম দক্ষতায় বিমানটি ইরানের মূল আকাশসীমা থেকে বের করতে সক্ষম হন এবং পরবর্তীতে পারস্য উপসাগরের নীল জলে অবতরণ করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভূপাতিত এফ-১৫-ই যুদ্ধবিমানের দুইজন ক্রুর মধ্যে একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী হেলিকপ্টার অভিযান চালিয়ে জীবিত উদ্ধার করেছে। কিন্তু বিমানের দ্বিতীয় ক্রু এখনও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে শুক্রবার রাতেই মার্কিন স্পেশাল ফোর্স সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। হেলিকপ্টারগুলো নিচু করে উড়ানোর সময় ইরানি বর্ডার পুলিশ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে হালকা অস্ত্রের গুলিতে একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের লেজে আগুন ধরে এবং ঘন ধোঁয়া ওঠে। তারপরও মার্কিন কমান্ডোরা অত্যন্ত দক্ষতায় হেলিকপ্টারটি নিরাপদভাবে ইরাক সীমান্তের ঘাঁটিতে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।
উদ্যোগী মার্কিন কমান্ডোরা তাদের সেনাকে উদ্ধার করতে মরিয়া, ঠিক তখনই স্থানীয় ইরানি মিলিশিয়ারা নিখোঁজ পাইলটকে যুদ্ধবন্দি করতে এবং নগদ পুরস্কারের আশা নিয়ে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও মাটিতে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের আবহ তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক তল্লাশি ও প্রতিরক্ষা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
বিডি/এএন


































