মার্কিন এফ-১৫ ও এ-১০ বিমান ভূপাতিত, ইরানি জনসাধারণ উল্লসিত
Published : ১৮:২০, ৪ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত নতুন এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ মূলত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
তবে যুদ্ধের ৩৫তম দিনে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর পরিস্থিতি সরাসরি শত্রু ভূখণ্ডে পৌঁছেছে, যা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।
ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে পেন্টাগনের দ্রুত তল্লাশি অভিযান শেষ পর্যন্ত নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বিমানটির দ্বিতীয় ক্রু, ‘উইপেন সিস্টেমস অফিসার’, এখনো দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আটকা রয়েছে। মার্কিন বিশেষ বাহিনী (স্পেশাল ফোর্স) নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের জন্য সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে অভিযান চালাচ্ছে। এই তল্লাশির সময় ইরানি বর্ডার পুলিশ এবং স্থানীয় সশস্ত্র মিলিশিয়ারা উদ্ধারকারী দলকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এমনকি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের লেজে আগুন ধরে যাওয়া সত্ত্বেও সেটি ইরাক সীমান্তে জরুরি অবতরণে সক্ষম হয়েছে।
ইরানি সামরিক বাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা ভূপাতিত এফ-১৫-সহ ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ বিমানও গুলি করে নামিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে উদ্ধার অভিযানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহায়তার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে যুদ্ধজয় এবং রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তারা একটি নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে জীবিত বা মৃত ধরে নগদ ৬০,০০০ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে, যা আমেরিকার নৈতিক মনোবল ভেঙে দিতে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ইরানিদের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে তাদের সামরিক সক্ষমতা এখনও পুরোপুরি ব্যবহৃত হয়নি। দুটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার পাশাপাশি কিছু হেলিকপ্টার ও ড্রোনও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং কিছু ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ, সেনাবাহিনী এবং সরকারের সমর্থকরা এই সাফল্যকে উল্লাসের সঙ্গে উদযাপন করছে, যা নতুন মনোবল যোগাচ্ছে।
এদিকে, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়ে এসেছে। এসব হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। খামেনির মৃত্যুর পর ৪০ দিনের শোক এবং রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলেও ইরান তাদের প্রতিরোধের তালে থেমে যায়নি এবং মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করছে।
সংক্ষিপ্তভাবে, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে নতুন মাত্রায় নিয়ে এসেছে, যা সামরিক, রাজনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিডি/এএন


































