ট্রাম্পের আল্টিমেটাম উপেক্ষা, কুয়েত-ইসরায়েলে ইরানের হামলা

ট্রাম্পের আল্টিমেটাম উপেক্ষা, কুয়েত-ইসরায়েলে ইরানের হামলা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:০৯, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার কঠোর আল্টিমেটামকে কার্যত উপেক্ষাই করেছে ইরান। ওয়াশিংটনের হুমকি ও সম্ভাব্য ভয়াবহ হামলার সতর্কবার্তাকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে বরং উল্টো পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান।

সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন মিত্র কুয়েত ও ইসরায়েল–এর ওপর সমন্বিতভাবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার শক্ত বার্তা দিয়েছে দেশটি।

ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘অসহায়, নার্ভাস ও বোকামিপূর্ণ’ বলে কটাক্ষ করেছে। এ বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian–এর খবরে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি ইরান কোনো সমঝোতায় না আসে বা অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় ‘সবচেয়ে কঠোর ও বিধ্বংসী হামলা’ চালানো হবে।

তবে সেই আল্টিমেটামকে একেবারেই গুরুত্ব না দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে কুয়েতে আঘাত হানে ইরান। কুয়েত সরকারের তথ্যমতে, ইরানের একাধিক ড্রোন হামলায় দেশটির দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ড্রোন সরাসরি সরকারি মন্ত্রণালয়ের একটি অফিস কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। একই সঙ্গে শুওয়াইক তেল খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।

সম্প্রতি উপসাগরীয় দেশগুলো—বিশেষ করে কুয়েত—ইরানের ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পাল্টা জবাব। এর আগে মাসের শুরুতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

অন্যদিকে, একই সময়ে ইসরায়েল–এর আকাশেও সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আসে।

এর আগে ট্রাম্প তার নিজস্ব Truth Social–এ পোস্ট করে সতর্কবার্তা দেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি মুক্ত না করা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।” গত ২৭ মার্চ তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা সোমবার (৬ এপ্রিল)।

উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে।

তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের এসব হামলার শুরুতেই দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–সহ হাজারো ইরানি নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ইরান পিছু হটেনি; বরং শুরু থেকেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে শক্ত ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement