ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে ‘বাস্তবসম্মত’ বললেন ট্রাম্প
Published : ১৩:৪০, ৮ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘ আলোচনার পর একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে একটি ‘বাস্তবসম্মত’ প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইরানের ওপর হামলা বাড়ানোর পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে যা আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঘটনাকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত তেহরানের শর্তগুলোর প্রতি নমনীয়তা দেখাতে শুরু করেছে।
এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে এবং পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছে, যা পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
এছাড়া ইরান ও তার মিত্রদের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করা, হিমায়িত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং সম্ভাব্য চুক্তিকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে তা ইরানি জাতির জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হবে।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত শর্তটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের কারণে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি কার্যত ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি নেওয়া হবে এবং সেই অর্থ ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি করে যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে।
মার্কিন ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মার্ফি এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যদি এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পায়, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উত্থাপিত কঠোর শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মেনে নেবে এমন সম্ভাবনা কম। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নমনীয় অবস্থান এবং হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই ১০ দফা প্রস্তাবই ইসলামাবাদের আলোচনার মূল ভিত্তি হতে পারে।
বিশ্ব সম্প্রদায় এখন ১০ এপ্রিলের বৈঠকের দিকে নজর রাখছে, যেখানে নির্ধারিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমবে নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


































