হরমুজ প্রণালির ফি দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা ইরানের
Published : ১৪:৩৮, ৮ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির একটি নতুন প্রস্তাব সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে তেহরান ১০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও ফারস নিউজ এজেন্সি।
প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করা। তেহরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অর্থ ওমান এর সঙ্গে ভাগাভাগি করে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে।
১০ দফার এই পরিকল্পনায় বেশ কয়েকটি কঠোর শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি দেওয়া।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরান ও তার মিত্রদের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করা এবং হিমায়িত ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস করার শর্তও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশীয় প্রযুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগামী দুই সপ্তাহ সীমিত আকারে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য ‘সেফ প্যাসেজ প্রোটোকল’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ বিনিয়োগ ও আর্থিক তহবিল গঠনের দাবিও জানিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শান্তি চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ শক্তিগুলোর প্রতি অ-আগ্রাসন নীতির বিষয়টিও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মার্ফি সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পায়, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নমনীয় অবস্থান এবং হামলা স্থগিতের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই ১০ দফা পরিকল্পনাই ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনার প্রধান ভিত্তি হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষকেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান


































