যুদ্ধবিরতিতে নীরবতায় নিজের দেশেই সমালোচনার মুখে নেতানিয়াহু
Published : ১৬:৩৩, ৮ এপ্রিল ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলি সরকারের নীরবতা দেশটির ভেতরেই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রবীণ সামরিক সাংবাদিক নিৎসান শাপিরা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) তেহরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল ১২-এর সামরিক প্রতিবেদক নিৎসান শাপিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সরকারের নীরবতার সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন সম্পর্কে ইসরায়েলি জনগণ এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য পাচ্ছে না। সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা অবস্থান জানানো হয়নি।
শাপিরা প্রশ্ন তোলেন, ইসরায়েলের কোনো কর্মকর্তা কি জনগণের সামনে এসে যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দেবেন, নাকি দেশটির মানুষকে এখনো বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপরই নির্ভর করতে হবে।
তার এই মন্তব্য ইসরায়েলি প্রশাসনের তথ্য গোপন করার প্রবণতা এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার অভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ভিত্তি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থান এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি ইসরায়েলের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা দেশটির সরকারি নীরবতার একটি কারণ হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অবস্থান পরিষ্কার করেনি। এদিকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পরিস্থিতি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার আগে ইসরায়েলি সরকার তাদের জনগণকে কী বার্তা দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি


































