ইসলামাবাদে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা শুরু

ইসলামাবাদে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা শুরু

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০৩:১৬, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
এএফপি জানায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইরানি প্রতিনিধি দল তাদের মার্কিন সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে শরিফ যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভান্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উভয় পক্ষের গঠনমূলক অংশগ্রহণের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে এই আলোচনা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
ইরান পূর্বেই জানিয়েছে, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব বিষয় ইসলামাবাদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে।
এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা কাতারে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটন সম্মত হয়েছে—এমন প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবানন পরিস্থিতি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বেশ দূরে রয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের আগে বলেন, ‘অপর পক্ষ যদি সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করে, আমরা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে এগোবো। কিন্তু যদি তারা সময়ক্ষেপণ করে, তাহলে আমাদের অবস্থান কঠোর হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিশ্চিত করা যে ইরানের কাছে কোনো পরমাণু অস্ত্র নেই।
শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনাকে ঘিরে নিরাপত্তা ছিল জোরদার। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং কূটনৈতিক অঞ্চল ‘রেড জোন’-এর আশপাশের সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান আলোচনায় সহায়তার জন্য নৌপরিবহন, পারমাণবিক এবং অন্যান্য কৌশলগত বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দলও গঠন করেছে।
 

শেয়ার করুনঃ
Advertisement