ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি অবরোধের নির্দেশ ট্রাম্পের
Published : ১৬:৫০, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে মার্কিন নৌবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেঙে যাওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
রোববার দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা সব জাহাজের ওপর নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করতে মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করে দ্রুতই উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। এর জবাবে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ যদি এই নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করে, তবে তাকে ‘মারণ ফাঁদে’ ফেলা হবে বলে সতর্ক করা হয়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় বলেন, তার মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে থাকা মাইন অপসারণ করে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে এর আগে ইরানকে এই পথ ব্যবহার করে কোনো ধরনের সুবিধা নিতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার তেহরানে ফিরে বলেছেন, ওয়াশিংটনের কোনো হুমকির কাছে ইরান মাথা নত করবে না। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনিই ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ইরান ইতোমধ্যে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে সীমিত করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চীনের মতো ‘বন্ধু’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে তেহরান।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌপথে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন । আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।”


































