শেখ হাসিনাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতের, ঢাকা-দিল্লিতে চলছে আলোচনা
Published : ১১:২০, ১৬ আগস্ট ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে ঘনিষ্ঠ আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দাবির অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে বিষয়টি সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।
ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত আদালতের। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মূলত যাচাই করা হবে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না।
আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে ওই মাসে দেশে ফেরার কথা জানান।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগও নিষিদ্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। এই রায়কে ভিত্তি করেই বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি দুই দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক থেকে আলাদা করে দেখছে না নয়াদিল্লি। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
এর আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধের প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, বিষয়টি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলেও জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। নয়াদিল্লির একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দলটির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্য দাবি করেছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের রায়কে বিভিন্ন আইনি যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। বিশেষ করে রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়টি ভারতের আদালতে তোলা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বিচারিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখা হলেও হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনার মতো কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। কোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাওয়ার পর ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে অনুসন্ধানী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। আবার অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।





























