হরমুজ প্রণালীতে এডিএনওসির জাহাজে হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা
Published : ১৫:৪১, ১৫ আগস্ট ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে এটি সর্বশেষ হামলার ঘটনা।
শনিবার এডিএনওসি জানায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় তাদের একটি জাহাজে হামলা হয়। তবে এতে কোনো নাবিক বা ক্রু আহত হননি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর এডিএনওসি সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর এক দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছিল, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় এডিএনওসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই ঘটনাকে ‘ইরানের বৈরী হামলা’ হিসেবে নিন্দা করে। সেখানেও কেউ আহত হয়নি বলে জানানো হয়েছিল।
এর আগে গত সপ্তাহে এডিএনওসি জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে তাদের তিনটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর এক দিন পর আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও একটি এডিএনওসি ট্যাংকারে হামলার কথা জানায়।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে এবং দেশটির পক্ষ থেকে এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে পথ ব্যবহারের ফি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর তীব্র বিরোধিতা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু একের পর এক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
গত জুনে হওয়া একটি চুক্তিতে স্থায়ী সমঝোতার জন্য আলোচনার ভিত্তি তৈরির কথা বলা হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান, ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা এবং এ বিষয়ে যেকোনো ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করার কথা রয়েছে।
তবে গত সপ্তাহে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলগদর হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য কয়েকটি শর্তের কথা জানান। তাঁর শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরান ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
হরমুজ প্রণালীতে ধারাবাহিক হামলার ফলে নৌ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
































