মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসে নমুনা সংগ্রহে জাপানের মহাকাশ অভিযান
Published : ১৩:১০, ১৬ আগস্ট ২০২৬
সৌরজগতের সৃষ্টি এবং পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে পেতে মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসে অভিযান চালাতে প্রস্তুত জাপান। মনুষ্যবিহীন এই অভিযানের মাধ্যমে ফোবোসের পৃষ্ঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা।
জাপানের তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ‘মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন’ বা এমএমএক্স মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে মঙ্গল ও এর উপগ্রহগুলোর আশপাশে অবস্থান করে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করবে এটি।
অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসে অবতরণের চেষ্টা করবে এমএমএক্স। সেখান থেকে অন্তত ১০ গ্রাম মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘আইডেফিক্স’ নামের একটি রোভার ফোবোসের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করবে।
এমএমএক্স মঙ্গলের অপর উপগ্রহ ডেইমোসও পর্যবেক্ষণ করবে। তবে সেখানে অবতরণ করবে না। অভিযান শেষে সংগৃহীত নমুনা একটি ফেরত ক্যাপসুলে করে পৃথিবীতে পাঠানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যাপসুলটি প্রায় ২০৩১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অবতরণ করতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ফোবোসের নমুনা বিশ্লেষণ করে মঙ্গল ও এর উপগ্রহের গঠন, সৌরজগতের প্রাথমিক ইতিহাস এবং পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মানুষকে মঙ্গলে পাঠানোর প্রস্তুতিতেও এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এ ক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে চীন। চীনের নিজস্ব মহাকাশ অভিযান জাপানের আগেই মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহাকাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জাপানের আগের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০২০ সালে জাক্সার ‘হায়াবুসা-২’ মহাকাশযান পৃথিবী থেকে কয়েকশ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রহাণু রিউগু থেকে ৫ দশমিক ৪ গ্রাম পাথর ও ধুলার নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে।
এ ছাড়া জাপানের ‘মুন স্নাইপার’ বা এসএলআইএম অভিযানও চাঁদে অবতরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। ২০২৪ সালে অবতরণের পর মহাকাশযানটি কাত হয়ে গেলেও সফলভাবে তথ্য পাঠাতে সক্ষম হয় এবং চাঁদের দীর্ঘ রাতেও টিকে ছিল।





























