ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৪৮, জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় হাজারো মানুষ
Published : ১২:৫৮, ১৬ আগস্ট ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন নিহত এবং অন্তত ১০১ জন আহত হয়েছেন। এতে শত শত বাড়িঘর ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় ৩৪১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবির মুখপাত্র বার্তন সুয়ার পেলিতা পানজাইতান জানান, দুর্গত কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কও এখনো চলাচলের উপযোগী হয়নি।
ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের নাঙ্গাহালে গ্রামের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী উমরি এএফপিকে বলেন, তাদের খাবার, পানি, ওষুধ এবং শিশুদের জন্য ডায়াপার প্রয়োজন। বাড়িতে ফিরতে ভয় পেয়ে তিনি অন্যদের সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করছেন।
একই পাহাড়ে রাত কাটানো ৫৫ বছর বয়সী নুরহিদায়াতি জানান, ভূমিকম্পের পর থেকে তিনি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ১৯৯২ সালের ভূমিকম্পের ভয়াবহ স্মৃতি তাকে এখনো তাড়া করে। সে কারণেই বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না তিনি।
১৯৯২ সালেও ফ্লোরেসে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
নুরহিদায়াতি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেবে।
বিএনপিবির মুখপাত্র বার্তন জানান, ভূমিকম্পে আহত ১০১ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রাণহানির পাশাপাশি সমুদ্রের কাছে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এতে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
দুর্গতদের জন্য জরুরি তাঁবু, খাবার, ওষুধ, কম্বল, খাট, মাদুর, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা ফাথুর রহমান রোববার এএফপিকে জানান, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের অদূরে সমুদ্রের নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উঁচু ভবন তুলনামূলক কম থাকায় বড় ধরনের ভবনধসের ঝুঁকি কিছুটা কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ৯১৪টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও শত শত বাড়ি কমবেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এ ছাড়া ভূমিকম্পে সরকারি ও জনসেবা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩৮টি সরকারি কার্যালয়।





























