জিম্বাবুয়ের লেক কারিবা ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত ৭২

জিম্বাবুয়ের লেক কারিবা ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত ৭২ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:০২, ১৬ আগস্ট ২০২৬

জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) হ্রদটি থেকে আরও ২৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি উত্তাল পানিতে উল্টে যায়। জিম্বাবুয়ে সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সংস্থা (আরআইডিএ) পরিচালিত ফেরিটি জাম্বিয়া সীমান্তবর্তী বিশাল লেক কারিবায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

পুলিশ শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, ১৫ আগস্ট রাতে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধারের পর কারিবা আরআইডিএ নৌযান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৭২ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে শনিবার আরও ২২টি মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা ৬৮ জনে পৌঁছেছিল। পরে নতুন করে আরও মরদেহ উদ্ধারের ফলে সংখ্যা বেড়ে ৭২ হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, ফেরিটিতে সর্বোচ্চ ৯০ জন যাত্রী বহনের অনুমতি ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক, পাঁচজন ক্রু এবং অজ্ঞাতসংখ্যক শিশু ছিল। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই হওয়ার বিষয়টিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।

বেসামরিক সুরক্ষা ইউনিট জানিয়েছিল, দুর্ঘটনার পর ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে।

স্বজনদের অপেক্ষা, কারিবা হাসপাতালে ভিড়

দুর্ঘটনার পর শনিবার কারিবা জেলা হাসপাতালে কয়েক শত মানুষ জড়ো হন। তারা নিখোঁজ স্বজনদের মরদেহ শনাক্তের অপেক্ষায় ছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে হাসপাতালের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

উদ্ধার অভিযানে থাকা রেজিমেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোসেফ মুচেচেসি জানান, উদ্ধারকারীরা মরদেহ উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে পানির নিচে থাকা মরদেহগুলো ভেসে উঠতে কিছুটা বেশি সময় লাগছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কারিবা শহরে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ দাফন শুরু হয়।

দুর্ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের

বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানান, যাত্রা শুরুর পরপরই ফেরিতে পানি ঢুকতে শুরু করেছিল। তারা চালককে নৌযানটি ঘাটে ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছিলেন।

একজন বেঁচে যাওয়া যাত্রী এএফপিকে জানান, ফেরিটি ডুবে যাওয়ার সময় মানুষকে নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করতে দেখেছেন তিনি। দুর্ঘটনায় তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাত স্বজনও মারা গেছেন।

স্মরণসভায় চান্স সিয়ামাভু নামে ৪৫ বছর বয়সী এক বেঁচে যাওয়া যাত্রী বলেন, একটি বড় ঢেউ ডুবতে থাকা ফেরিটিকে ঠেলে দেওয়ায় তারা নৌযানটির ওপর উঠতে সক্ষম হন।

তিনি জানান, ফেরিটি উল্টে যাওয়ার পর অনেকেই লাইফ জ্যাকেট নেওয়ার জন্য ছোটাছুটি করেন। কিন্তু অধিকাংশ যাত্রীই লাইফ জ্যাকেট কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা জানতেন না। ফলে বেশিরভাগ মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত লেক কারিবা আয়তনের দিক থেকে নয়, পানির ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ হিসেবে পরিচিত। এই হ্রদে এমন ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement