শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী-আইজিপিসহ ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখাল ট্রাইব্যুনাল
Published : ১৩:৫৭, ১৬ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই সাংবাদিকসহ নয় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রোববার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর মামলার ৪১ আসামির মধ্যে প্রথমবারের মতো এই নয়জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
গ্রেপ্তার দেখানো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মণ্ডল।
তাঁরা সবাই মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য মামলায় আগে থেকেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। শাপলা চত্বরের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের নতুন করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথমে একটি বিবিধ মামলা বা মিস কেস করা হয়। সেখানে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো যায়। পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সেটি মূল মামলায় রূপ নেয়। তখন আসামিদের বিরুদ্ধে আবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে মূল মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এ মামলার আরও দুই আসামি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক অন্য মামলায় কারাগারে থাকলেও রোববার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। পরবর্তী ধার্য তারিখে তাঁদের হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাপলা চত্বরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট ৪১ জন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদও রয়েছেন। বর্তমানে ৩০ আসামি গ্রেপ্তার হননি।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ৩০ আসামির মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি—এমন প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। বাকি ১০ আসামির বিষয়ে এখনো গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তার না হওয়া ৩০ আসামির বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই দিনে মামলার পরবর্তী শুনানিও অনুষ্ঠিত হবে।
































