ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ দিতে থানায় গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ দিতে থানায় গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:০১, ১৬ আগস্ট ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ছেলের বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়ে মারা গেছেন ৭৫ বছর বয়সী আবু তাহের মজুমদার। থানার মূল ফটকের কাছে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু তাহের উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় কৃষক আবু তাহের সারা জীবন কৃষিকাজ করে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার চালিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে শরীফের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। পারিবারিক বিরোধ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শনিবার সকালে ছেলে শহিদুলের সঙ্গে ঝামেলার পর তাঁর বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে থানায় যান আবু তাহের। থানার সামনে একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে নিজের অভিযোগ লিখিয়ে নেন তিনি। অভিযোগপত্র হাতে থানার ভেতরে প্রবেশের সময় ফটকের কাছেই হঠাৎ পড়ে যান।

পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন জানান, আবু তাহের অ্যাজমাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

এদিকে বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছেলে শহিদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, তিনি প্রবাসী এবং কয়েক দিন পর আবার বিদেশে যাওয়ার কথা রয়েছে। বাবাকে নির্যাতনের প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি করেন তিনি।

শহিদুল আরও দাবি করেন, তাঁর বাবার কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট ছিল। ঘটনার দিন সকালে বাবা তাঁকে দা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে বাবা থানায় চলে যান বলে দাবি তাঁর।

তবে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর দাবি, শহিদুল দীর্ঘদিন দুবাইয়ে ছিলেন এবং প্রায় আড়াই মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। বাবার সঙ্গে তাঁর হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে শুনেছেন ওই প্রতিবেশী।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement