উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে ৭০ বছরের পুরোনো মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
Published : ১৩:৪৪, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলাশাসকের (ডিএম) কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে কঠোর পুলিশ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। আদালতের রায় বহাল থাকার পরপরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি জমি ‘দখল’ করে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। বজরং দলের সাবেক প্রাদেশিক সমন্বয়কারী বিকাশ ত্যাগীর এক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই মামলায় গত ১৭ জুলাই আদালত মসজিদটিকে বেআইনি ঘোষণা করে ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে মসজিদ কমিটিকে ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের এই আদেশের বিরুদ্ধে মুসলিম পক্ষ আপিল করলেও গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা জজের আদালত তা খারিজ করে পূর্বের নির্দেশ বহাল রাখেন। এরপরই শনিবার ভোরে আকস্মিকভাবে বুলডোজার চালিয়ে স্থাপনাটি ধ্বংস করা হয়।
অভিযানকালে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) ও সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারিসহ (পিএসি) বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য পুরো চত্বর ঘিরে রাখেন এবং প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেন। স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, মসজিদটির বয়স প্রায় ৭০ বছর এবং এর বৈধ রাজস্ব রেকর্ডও রয়েছে।
এদিকে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা হাইকোর্টে যাওয়ার আইনি সুযোগ থাকার আগেই প্রশাসন হঠকারীভাবে মসজিদ ভেঙে ফেলায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক সাংসদ ফজলুর রহমান এবং কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের সুযোগ থাকলেও প্রশাসন তড়িঘড়ি করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এছাড়া সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সাংসদ ইকরা হাসান পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য সাহারানপুর যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে বাধা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

































