প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেন ভুচিচ, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী
Published : ১১:৫১, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। প্রায় দুই বছর ধরে চলা ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ও তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তিনি আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদ নির্বাচনে নিজের দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) নেতৃত্ব দিতে চাইছেন। দলটি সরকার গঠন করলে ভুচিচ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নিজের পদত্যাগপত্র পড়ে শোনানোর সময় ভুচিচ বলেন, ‘আমি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’ পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। সার্বিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তার দায়িত্ব সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ভুচিচের পদত্যাগের ফলে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথও খুলে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। রয়টার্স জানিয়েছে, ভুচিচের দ্বিতীয় ও শেষ পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় মেয়াদে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না।
ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে নির্বাচন
ভুচিচের শাসক দল বর্তমানে ছাত্র-সমর্থিত একটি শক্তিশালী আন্দোলনের মুখোমুখি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। দুর্ঘটনার জবাবদিহি, তদন্ত এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়।
ছাত্র-সমর্থিত নির্বাচনী প্ল্যাটফর্মে অধ্যাপক, শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ, ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন পেশার অপেক্ষাকৃত অপরিচিত ব্যক্তিরা রয়েছেন। আন্দোলনকারীরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইকেলে করে প্রচারও করছেন।
ক্ষমতার কেন্দ্র বদলালেও প্রভাব থাকবে ভুচিচের
সার্বিয়ায় সাংবিধানিকভাবে প্রেসিডেন্টের তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা বেশি। তবে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভুচিচ দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ধরে রেখেছেন। তিনি ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
পদত্যাগের আগে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভুচিচ সরকারপন্থি গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে দেশ সফর করেছেন। বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প উদ্বোধন, আর্থিক সহায়তা এবং ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগের কথা প্রচার করেছেন।
বিরোধ, অভিযোগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
ভুচিচ ও তার দল এসএনএসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সমালোচনামূলক গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ওপর চাপ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। দলটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার কথা বলে আসছে।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি সহিংসতা ও আটকের অভিযোগও উঠেছে। ভুচিচ আবার বিরোধী পক্ষ ও সমালোচনামূলক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিদেশি প্রভাবের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ করেছেন। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিএসকে তিনি বলেন, বিদেশি শক্তি ও দেশের কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি নির্বাচনের রাতে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা করছে—তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি

































