‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচনের প্রস্তুতিতে ইরান

‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচনের প্রস্তুতিতে ইরান ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১৪:২০, ২২ অক্টোবর ২০২৬

‘ফাদার অব অল বোম্বস’ নামে নতুন একটি মারণাস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মোহাবি এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি এমন একটি অস্ত্র, যা শত্রুরা আগে দেখেনি। তবে অস্ত্রটির ধরন, শক্তি, কার্যক্ষমতা কিংবা উন্মোচনের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

বার্তা সংস্থা ওয়াইজেসিএনএ-কে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) মোহাবি বলেন, ‘আমরা ফাদার অব অল বোম্বস উন্মোচনের প্রস্তুতি পর্বে আছি। এটি শত্রুদের জন্য নতুন অস্ত্র।’

ইরানের এই ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত বিশালাকার অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা করছে। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত এই অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বোম্বস’ কী?

‘মাদার অব অল বোম্বস’ যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস-নির্দেশিত একটি বিশালাকার অ-পারমাণবিক বোমা। গত কয়েক সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের বিভিন্ন সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএনএনকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক পরিকল্পনায় নীতিনির্ধারকদের জন্য বিভিন্ন মাত্রার আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের বিকল্প রাখা হয়। ভূগর্ভের গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে বড় বোমার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এই বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক সংশ্লিষ্টদের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশেষ করে পিকাক্স পর্বত এলাকায় অবস্থিত বলে উল্লেখ করা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরু গ্রানাইট পাথরের স্তরে সুরক্ষিত থাকায় সেগুলো ধ্বংসে বোমাটি যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বোমাটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম হলেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসে এর কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্রটিকে সামরিক আঘাতের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির উপায় হিসেবেও বিবেচনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু

শেয়ার করুনঃ
Advertisement