ইউরেনিয়াম সরানো হবে না, পারমাণবিক কর্মসূচিতে অনড় ইরান
Published : ১১:৩৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমঝোতার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তৎপরতা বেড়েছে। এরই মধ্যে যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এদিকে অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পেছনে এই কর্মসূচিও একটি কারণ ছিল।
মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেন, “এক গ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ইরান থেকে সরানো হবে না।”
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি নাকচ করেননি। এর আগে তেহরান এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল।
ইরানের কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে সার্বভৌম অধিকার এবং হামলা, অন্তর্ঘাত ও হত্যাকাণ্ডের মধ্যেও অর্জিত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে আসছে। মঙ্গলবার রেজায়ি এই কর্মসূচিকে ‘জাতীয় সম্পদ’ বলে অভিহিত করেন।
ইরান কমমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেসামরিক খাতেও ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদন এবং রাশিয়ার সহযোগিতায় বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সামরিক চাপের মুখে পারমাণবিক কর্মসূচি ছেড়ে দেওয়া কার্যত আত্মসমর্পণের সমান। বিশেষ করে ভবিষ্যতে দেশটির ওপর আর হামলা চালানো হবে না—এমন নিশ্চয়তা না থাকলে কর্মসূচি সমর্পণ করলে ইরান আরও আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
সুত্র: আল জাজিরা






























