ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কেইন, চ্যালেঞ্জে ইয়ামাল
Published : ১২:০৩, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড় ঘিরে ফুটবলবিশ্বে আলোচনা বাড়ছে। ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজারের হিসাব অনুযায়ী, বায়ার্ন মিউনিখের ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসিও রয়েছেন আলোচনার মধ্যে।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ৩৩ বছর বয়সী কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৯ বছর বয়সী ইয়ামালের ক্ষেত্রে তা ২৮ শতাংশ। বাকি সম্ভাবনা রয়েছে এমবাপে ও মেসির দিকে। পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এই সম্ভাবনার হিসাব বদলেছে; কখনো মেসি ও ইয়ামাল, আবার কখনো এমবাপে ও কেইন আলোচনায় এগিয়ে এসেছেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সর্বোচ্চ আটবার ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসিকে এবারের পুরস্কারের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ফাইনালের পর কেইনকে ঘিরে আলোচনা বেড়েছে, যদিও তাঁর দল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেনি। অন্যদিকে, বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ইয়ামাল ফাইনালে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। পুরো মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া; ফাইনালে গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারলে তাঁর পুরস্কার জয়ের আলোচনা আরও জোরালো হতে পারত।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে ইয়ামাল চারটি শট নেন, যা ম্যাচে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। তবে তাঁর কোনো শটই জালে জড়ায়নি। ফলে বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভোটাভুটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যে কারণে শেষ পর্যন্ত ফল অনুমান করা কঠিন।
ব্যালন ডি’অরের বিধিমালার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘লিগ কিংবা জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, বিশ্বের সেরা পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দেওয়া হয়।’ খেলোয়াড়দের মৌসুমের পারফরম্যান্স তুলনা করতে ইউরোপিয়ান স্পোর্টস মিডিয়ার (ইএসএম) ‘টিম অব দ্য মান্থ’-এর হিসাবও বিবেচনায় নেওয়া যায়।
মাসসেরা একাদশে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি
১৯৯৫ সাল থেকে সাংবাদিকদের একটি দল প্রতি মাসে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে একাদশ নির্বাচন করে আসছে। এর মাধ্যমে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর বিভিন্ন পজিশনে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের দীর্ঘমেয়াদি তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৮৮ বার জায়গা পেয়েছেন মেসি। দ্বিতীয় স্থানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ৫১ বার। অন্য কোনো খেলোয়াড় ৩৪ বারের বেশি এই একাদশে জায়গা পাননি।
বর্তমানে ইউরোপে খেলা ফুটবলারদের মধ্যে নাপোলির কেভিন ডি ব্রুইনা ৩২ বার এবং লিভারপুলের ভার্জিল ফন ডাইক ৩০ বার মাসসেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপে এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ২৫ বার।
গত মৌসুমে মাসসেরা একাদশে সবচেয়ে বেশি আটবার জায়গা পেয়েছেন কেইন। সাতবার ছিলেন গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েস, ডেকলান রাইস ও মাইকেল ওলিসে প্রত্যেকে ছয়বার করে নির্বাচিত হয়েছেন। এমবাপে পাঁচবার এবং আর্লিং হালান্ড ও আশরাফ হাকিমি চারবার করে জায়গা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গোলরক্ষক রায়া ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই।
বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার হিসাব
২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পাঁচবার ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন রানার্সআপ আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি। ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহ্যাম চারবার এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। এমবাপে, হালান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তিনবার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন। কেইন ও ইয়ামাল দুবার করে এই পুরস্কার পেয়েছেন। সমান সংখ্যক ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন রোনালদোও।
গোল ও অ্যাসিস্টে কেইন-এমবাপে এগিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খেলায় সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় (এমভিপি) নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট সময়ের পারফরম্যান্স নয়, সামগ্রিক অবদানও বিবেচনা করা হয়। ব্যালন ডি’অর আলোচনাতেও গোল ও অ্যাসিস্টের মতো পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে গত মৌসুমে গোল এবং অ্যাসিস্টে কেইন ও এমবাপে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গত মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬৪টি গোলে অবদান রেখেছেন কেইন। রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড এমবাপের অবদান ৬০ গোলে। এরপর রয়েছেন মাইকেল ওলিসে ৫২, হালান্ড ৫০, লুইস দিয়াজ ৪১, ইয়ামাল ৩৮, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৩৬ এবং উসমান দেম্বেলে ৩৫ গোলে অবদান নিয়ে।
তবে গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা দিয়ে একজন খেলোয়াড়ের সামগ্রিক অবদান পুরোপুরি বোঝা যায় না। অ্যাসিস্ট নির্ভর করে সতীর্থের গোল করার ওপর, আবার সব গোলের গুরুত্বও এক রকম নয়। এ কারণে ‘অ্যাডজাস্টেড গোল’ ও ‘এক্সপেক্টেড অ্যাসিস্ট’-এর মতো উন্নত পরিসংখ্যানও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। এই হিসাবে কেইনের স্কোর ৫১.১৬ এবং এমবাপের ৫০.৮৬।
গোল ও অ্যাসিস্টের বাইরেও আক্রমণ গড়ে তোলা, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা এবং দলের গোলের সম্ভাবনা বাড়ানোর মতো বিষয় খেলোয়াড়ের অবদান মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। সামগ্রিক আক্রমণাত্মক পরিসংখ্যানে কেইন ও এমবাপে আলোচনায় থাকলেও ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজারে কেইনের পাশাপাশি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইয়ামাল। বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সও আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান, দলীয় সাফল্য ও ভোটাভুটির সমন্বয়ে ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণের বিষয়টি জটিলই থাকছে।


































