নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন আইজেনকট

নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন আইজেনকট গাদি আইজেনকট | ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১১:২৫, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে মনোনীত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে ইয়াশার পার্টির এই নেতাকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আইজেনকটকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রেসিডেন্ট। রোববার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর হাতে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। 

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন হারজগ। ওই আলোচনায় ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকটের পক্ষে সরকার গঠনের সুপারিশ করেন। তাঁদের মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সদস্যরাও রয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। 

সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন। দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন নিয়ে জোট সরকার গঠন করতে হবে তাঁকে। 

নির্বাচনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি।

তবে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন আইজেনকট। এসব দলের সমর্থন পেলে তাঁর পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে অতি-ধর্মীয় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস পার্টির সমর্থন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের পথও খোলা রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে জানান, সবচেয়ে বেশি আইনপ্রণেতার সুপারিশ পাওয়ায় আইজেনকটকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। তবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি সরকার গঠন করা, যা নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি বিরোধী জোটের চাপও সামাল দিতে পারবে।

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একজোট বিরোধীরা

২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন আইজেনকট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শনিবার আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমেদ তিবি বলেন, হারজগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিতই ছিল। তবে আইজেনকট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব অনুযায়ী জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আশঙ্কা ছিল তাঁদের।

তিবি বলেন, শেষ পর্যন্ত আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন। এতে তাঁর সামনে সরকার গঠনের উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিবির ধারণা, আরব দলগুলোর বাইরে থেকে দেওয়া সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন আইজেনকট। এমন সরকার আরব দলগুলোর প্রত্যাশিত না হলেও নেতানিয়াহু, ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

এর আগে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে বিরোধীরা সরকার গঠন করলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

এক ভিডিও ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইসলামপন্থিদের ওপর নির্ভরশীল এমন সরকার ভেতর থেকেই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলবে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে যা ঘটছে, ইসরায়েলে পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ হবে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের জবাবে আহমেদ তিবি বলেন, নেতানিয়াহু তাঁদের সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসীদের সমর্থক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ তাঁর মতে, নেতানিয়াহুই ইসরায়েল ও এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী এবং বিশেষ করে পশ্চিম তীর ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

আল জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ বলেন, আইজেনকট প্রকাশ্যে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে দুই পক্ষের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। এ সমীকরণই শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আইজেনকট নির্ধারিত ২৮ দিনের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজনকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় কাউকে মনোনীত করার সুযোগ পাবেন। তৃতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement