৬ ঘণ্টার কম ঘুমে শরীর ও মস্তিষ্কে নীরব ক্ষতি

৬ ঘণ্টার কম ঘুমে শরীর ও মস্তিষ্কে নীরব ক্ষতি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:২৭, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

ঘুমানোর সময় নেই, রাত জেগে কাজ করতেই হবে—অলস মানুষ ঘুমায়, আর সফলরা নাকি জেগে থাকে। এমন ধারণায় অনেকেই আজ ঘুমকে ‘অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা’ হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে একেবারেই ভিন্ন কথা। ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, এটি শরীর ও মস্তিষ্কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রতিদিন নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালে শরীরে নানামুখী ক্ষতি শুরু হয়, যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ধীরে ধীরে মানুষের আয়ু পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

কম ঘুমের ক্ষতি একদিনে চোখে পড়ে না। এটি নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে জমতে থাকে। একসময় এর প্রভাব পড়ে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক স্থিতি, আবেগীয় ভারসাম্য এমনকি সামাজিক সম্পর্কের ওপরও।

প্রতিদিন কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন?
ঘুমের প্রয়োজন বয়সভেদে আলাদা হয়। সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম আদর্শ ধরা হয়। কিশোরদের ক্ষেত্রে এই সময়টা আরও বেশি—প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। ছোট শিশুদের বয়স অনুযায়ী দৈনিক ৯ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুম দরকার হতে পারে। যারা নিয়মিত এই প্রয়োজনীয় সময়ের চেয়ে কম ঘুমান, তাদের শরীর ও মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে নানা জটিলতা তৈরি হয়।

নিয়মিত কম ঘুমানোর ক্ষতিকর প্রভাব
মস্তিষ্কের ক্ষতি ও মনোযোগ কমে যাওয়া
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করতে পারে না। ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও কমে যায়।

হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি
কম ঘুম হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত করে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে
ঘুম ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না, ফলে বারবার অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
ঘুমের ঘাটতিতে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন লেপটিন ও ঘ্রেলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, ওজন বৃদ্ধি পায় এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি
অপর্যাপ্ত ঘুম ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, মুড সুইং, রাগ ও হতাশার মতো মানসিক সমস্যাকে আরও তীব্র করে তোলে।

ত্বক ও চেহারায় নেতিবাচক প্রভাব
চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল, ত্বকে ক্লান্ত ও নিষ্প্রাণ ভাব এবং বয়সের ছাপ—এসব ঘুমের অভাবে দ্রুত প্রকাশ পায়।

দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া
ঘুমের সময় শরীরের কোষ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। কম ঘুমালে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে স্বাভাবিক বার্ধক্য প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়।

সমাধান কী হতে পারে?
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা

ঘুমানোর আগে মোবাইল, ল্যাপটপ ও টিভির ব্যবহার কমানো

শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করা

ঘুমের আগে হালকা মেডিটেশন বা বই পড়ার অভ্যাস করা

রাতের খাবার হালকা রাখা

সন্ধ্যার পর ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা

পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম কেবল কর্মক্ষমতা বাড়ায় না, বরং দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement