তামাকবিরোধী আইন আরও কঠোর করার ওপর জোর দিলেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Published : ১৭:২৯, ১৫ জুন ২০২৬
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে বিদ্যমান আইন আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, আইনের কিছু ফাঁকফোকরের কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তামাক একটি গুরুতর আসক্তি, যা মানবদেহের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। তিনি জানান, তামাক সেবনের ফলে ঘুমের সমস্যা, ক্ষুধামন্দা, ওজন হ্রাস এবং মুখগহ্বর ও দাঁতের ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনেক তরুণ তামাক ব্যবহার থেকে আরও মারাত্মক মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়ম ও অবহেলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, অমানবিক সেবার অভিযোগের কারণে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি।
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য বিভাগ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জন করেছে। ঈদের আগ থেকে দেশব্যাপী প্রচারণা চালিয়ে ব্যাপকহারে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
হামের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত এক সপ্তাহে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, টিকা নেওয়ার পর শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে।
ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।































