প্রবাসীদের মেধা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ গড়ে তুলতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

প্রবাসীদের মেধা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ গড়ে তুলতে চায় সরকার: মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:১৫, ১৫ জুন ২০২৬

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কার্যকরভাবে যুক্ত করে দীর্ঘদিনের ‘ব্রেন ড্রেন’ বা মেধাপাচারের প্রবণতাকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তর করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে প্রবাসীদের বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন ব্যবস্থায় সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ও বসবাসরত বাংলাদেশিরা শুধু রেমিট্যান্সের উৎস নন, তারা জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ বাহক। সরকার এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা দেশের অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেমে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করা এবং ধীরে ধীরে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে আনা।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমশক্তি রপ্তানির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. মাহদী আমিন বলেন, সরকার শুধু শ্রমিক প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নয়, বরং দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চমূল্যের শ্রমবাজারে প্রবেশের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক কর্মবাজারে নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ বা ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার মতে, এই কার্ড চালু হলে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান আরও সহজ হবে।

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে আর্থিক ও শিক্ষাগত সনদপত্রে কিউআর কোডভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তরুণদের আন্তর্জাতিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তার অংশ হিসেবে সরকার সম্প্রতি একটি বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এর আওতায় বিদেশে ভাষা শিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কী ধরনের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা রয়েছে, তা নির্ধারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সেই চাহিদা অনুযায়ী দেশের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement