জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
Published : ২১:৪৫, ১৪ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট একটি জনবান্ধব ও জনগণের পক্ষের বাজেট, যার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করা।
শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাজেটে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাজেট দিয়েছি যাতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় কমে আসে। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ছানি অপারেশনে ব্যবহৃত লেন্সের ওপর কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।
বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করছে, তারা সাধারণ মানুষের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে না।
অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হওয়ার পর এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে, তাই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
তিনি আরও জানান, আনোয়ারা-পটিয়া-বাঁশখালী সড়কও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
কক্সবাজারের লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত একটি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ফলে গ্রামীণ জনগণকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় শহরে যেতে হবে না।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ অঞ্চলের মানুষ বারবার বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছে।

































