আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস
Published : ১৮:৫৪, ১২ জুন ২০২৬
শিশুশ্রম রোধে জন্মনিবন্ধন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। শিশুর পরিচয়, অধিকার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সেবা প্রাপ্তির প্রথম ধাপ এই জন্ম নিবন্ধন। নিবন্ধনহীনতা একটি শিশুকে ঠেলে দিতে পারে শিশুশ্রমের দিকে। “রেড কার্ড টু চাইল্ড লেবার: ফেয়ার প্লে ফর চিলড্রেন, ডিসেন্ট ওয়ার্ক ফর এডাল্টস” প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ (১২ জুন) পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। এবছরে শিশুশ্রম প্রতিরোধ এবং শ্রমে জড়িয়ে পড়া শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর নীতি জোরদার করার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে প্রতিটি শিশুর জন্মনিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের গড় হার ৫০ শতাংশ এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্য এই হার মাত্র ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ এখনও বিপুলসংখ্যক শিশু রাষ্ট্র স্বীকৃত পরিচয় থেকে বঞ্চিত। ফলে তাদের বয়স যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা শ্রমবাজারে প্রবেশ ও শোষণের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। জন্ম নিবন্ধন থাকার অর্থ হলো, শিশুর বয়স রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং এটি শিশুকে যেকোনো ধরনের শ্রম ও শোষণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ সংশোধন করে সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিবন্ধনের আইনগত দায়িত্ব অর্পণ করা হলে, দেশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে। এর ফলে জন্মনিবন্ধনের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (সিআরভিএস) দশকের শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৮.৭ (শিশুশ্রম ও সব ধরনের শিশু শোষণের অবসান) অর্জনকে ত্বরান্বিত করবে।
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা'র নির্বাহী পরিচালক, এবিএম জুবায়ের বলেন, “আইন সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা গেলে শিশুশ্রম এবং শিশুদের প্রতি শোষণ ও বঞ্চনা কমে আসবে।”

































