রিসোর্টের ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ নিয়ে মুখ খুললেন মামুনুল হক
Published : ১৩:২৭, ২০ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত রিসোর্টকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ ঘটনাটি ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
পোস্টে মামুনুল হক বলেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও অন্যান্য ব্যক্তিরা সেখানে গিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, কক্ষের দরজা খোলার পর একাধিক ব্যক্তি জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করতে শুরু করে। পরিস্থিতির মধ্যে তার স্ত্রীকে সুরক্ষার জন্য ওয়াশরুমে রাখলেও সেখানেও নারী পুলিশ সদস্য প্রবেশ করে লাইভ সম্প্রচার চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ও জান্নাত আরা নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানান। পরে বিভিন্ন মহলে এ তথ্যও প্রচারিত হয়। তবে এরপরও তাকে থানায় নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
জান্নাত আরার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, জান্নাত আরা পূর্বে তার এক সহকর্মীর স্ত্রী ছিলেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয় এবং পরবর্তীতে শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সামাজিক ও পারিবারিক জটিলতার কারণে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে মামুনুল হক আরও দাবি করেন, রিসোর্টকাণ্ডের পর তাকে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলা হয় এবং তার বিরুদ্ধে চরিত্রহননের চেষ্টা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত কল রেকর্ড প্রকাশ, পরিবারকে হয়রানি এবং নানা ধরনের প্রচারণা ছিল একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ।
‘মুতা বিয়ে’ বা চুক্তিভিত্তিক বিয়ের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, জান্নাত আরার সঙ্গে তার বিয়ে ছিল শরিয়তসম্মত ও বৈধ। তবে পরবর্তীতে পারিবারিক কারণে ২০২৫ সালে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
দীর্ঘ পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, তৎকালীন সরকারের আমলে তাকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাতে সম্মত হননি।
পোস্টের শেষাংশে মামুনুল হক বলেন, ‘৫০১’ তার কাছে কোনো নেতিবাচক স্মৃতি নয়; বরং এটি একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের প্রতীক। তিনি একে ‘বিজয়ের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ প্রসঙ্গ তুলে ধরার কথা জানান।
তবে মামুনুল হকের এসব দাবি ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা অভিযুক্ত পক্ষগুলোর কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




























