প্রাণনাশের হুমকি-মারধর মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন
Published : ২০:০৩, ২৪ আগস্ট ২০২৬
তিস্তা সোলার ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দিতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরমানুল ইসলামকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার, ২৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তার জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সজিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিআইএফএফএলের সাবেক সিইও এস এম ফরমানুল ইসলাম ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর আগে আব্দুর রউফ তালুকদার, আবু হেনা মো. রহমতুল মুনিম, বিআইএফএফএলের সাবেক কোম্পানি সচিব মো. মনিরুল ইসলাম খান এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জামিন পান।
মামলার অপর আসামি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব সাজ্জাদুল হাসান পলাতক রয়েছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে এস এম ফরমানুল ইসলামকে তিস্তা সোলার প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিতে চাপ দেন। বিআইএফএফএলের নীতিমালা অনুযায়ী তা সম্ভব নয় জানালে তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে তিস্তা সোলারের অনুকূলে ২০০ কোটি টাকা জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগের কথা বলে ওই অর্থ আগাম ঋণ হিসেবে চাওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ রয়েছে। বাদী পর্যাপ্ত তহবিল না থাকার কথা জানালে তার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অবৈধ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এস এম ফরমানুল ইসলামকে চাকরি থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এতে তার আর্থিক ক্ষতি, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া এবং মানহানি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।


































