ইরানের পাল্টা হামলার দাবি, জর্ডানের দুই মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরানের পাল্টা হামলার দাবি, জর্ডানের দুই মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:৪২, ৩১ আগস্ট ২০২৬

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সমন্বিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এ অভিযান চালানোর দাবি করে আইআরজিসি।

আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী জানিয়েছে, জর্ডানের কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘাঁটির কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান রাখার এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। হামলায় বিমানঘাঁটিগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা হলে তার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

ইরানে মার্কিন হামলার পর পাল্টা আঘাত
এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষের পর ইরানের ভূখণ্ডে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন কিছু ব্যবস্থা ওই হামলায় লক্ষ্য করা হয়।

ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় তাদের কয়েকজন যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করে ইরানি বাহিনী।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

নতুন করে বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রয়েছে।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাঠামোতে পৌঁছালেও বিরোধ পুরোপুরি নিরসন হয়নি। পরে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে বিরোধের জেরে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় টানা দুই সপ্তাহ বোমা হামলা চালায় এবং নৌ অবরোধও পুনর্বহাল করে।

সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement