সিফাতকে ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন: শফিকুর রহমান

সিফাতকে ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন: শফিকুর রহমান ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:১৭, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগে কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহর গ্রেফতার এবং একে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মুক্তি দাবির বিষয়টি আবারও ভিন্নমত প্রকাশ, বাকস্বাধীনতা এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের স্বরূপ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

সিফাতের বক্তব্যের ভাষা শিষ্টাভদ্র বা মার্জিত ছিল না—এ কথা যেমন সত্য, তেমনি এর পেছনে থাকা কারণগুলোও অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং জনজীবনের বহুমুখী সংকট তরুণ সমাজকে যেভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলছে, সিফাতের ভিডিওটি তারই এক তাৎক্ষণিক ও অবিন্যস্ত বহিঃপ্রকাশ মাত্র। একজন নাগরিক হিসেবে তার ভাষা আপত্তিকর হতে পারে, কিন্তু সেই ক্ষোভের উৎস বা প্রতিবাদকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা বা তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ হিসেবে দেখা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনা করার অধিকার অত্যন্ত মৌলিক বিষয়। তীব্র ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করা বা অসহিষ্ণু হয়ে ওঠা ব্যক্তির নিজস্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র বা সরকারের উচিত সংবেদনশীল হওয়া এবং সমালোচনার অন্তর্নিহিত কারণগুলোর সমাধান করা। কেবল আইনি পদক্ষেপ বা জেল-জুলুমের মাধ্যমে তরুণদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা অতীতে কখনো দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনেনি, বর্তমানেও তা ফলপ্রসূ হওয়ার নয়। বরং এ ধরনের ঘটনা জনমনে আরও বেশি ক্ষোভ ও অনাস্থার জন্ম দেয়।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ এবং জনদুর্ভোগের বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসা রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার। তবে সেই সাথে এটিও অনুধাবন করা জরুরি যে, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের সহনশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে সমাজের অস্থিরতা কমবে না। সিফাতের মতো তরুণদের ক্ষোভের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে দেশের নীতিনির্ধারকদের উচিত জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হওয়া, যাতে তরুণ সমাজকে হতাশা থেকে এ ধরনের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে না হয়।

নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল আচরণ এবং ভিন্নমতের প্রতি ন্যূনতম সহনশীলতা প্রদর্শন বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement