আবারও বড় রদবদল আসছে মন্ত্রিসভায়
Published : ১৩:৪০, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কাজের পরিধি ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের তাগিদ থেকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ও সম্প্রসারণের জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস অথবা আগামী মাসের শুরুর দিকেই মন্ত্রিসভায় এই পরিবর্তন আসতে পারে। সরকারের ছয় মাস পূর্তির পর বিভিন্ন দপ্তরে কাজের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে নীতিনির্ধারণী মহল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নেয় বর্তমান সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হলেও পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর বাইরে মন্ত্রিপরিষদে বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সরকার গঠনের পর থেকেই কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা, মন্ত্রীদের বিতর্কিত মন্তব্য এবং কিছু দপ্তরে স্থবিরতা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা চলছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সরকারি বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে কাজের গতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীদের আচরণ ও অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ সামলানো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পরিবর্তন এনে দক্ষ ও বিতর্কহীন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চিন্তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, রাজপথের ত্যাগী ও দীর্ঘদিন ধরে মূল্যায়ন-বঞ্চিত সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রিসভায় এনে সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি আরও সুসংহত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্ভাব্য এই রদবদলে বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা, সংসদ সদস্য এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কিংবা কাজের গতি কম থাকায় কিছু মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন কিংবা তাদের ওপর থেকে অতিরিক্ত দপ্তরের চাপ কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি নতুন সরকারের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে গতিশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে রদবদল একটি স্বাভাবিক ও ইতিবাচক প্রক্রিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নতুন দায়িত্ব পাবেন কিংবা কার হাত থেকে কোন দপ্তর পরিবর্তন হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের ওপর।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট





























