নবম পে স্কেল: পেনশনের হারে বড় পরিবর্তন
Published : ১২:৪৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন পে-স্কেলে কেবল কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নয়, অবসরভোগীদের পেনশনের নিয়মেও আনা হয়েছে বড় ধরনের পরিবর্তন। কম পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তুলনামূলক বেশি হারে পেনশন বৃদ্ধির বিধান রেখে নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর আওতায় জারীকৃত এই প্রজ্ঞাপন গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, নিট পেনশন, আনুতোষিক, পারিবারিক পেনশন ও ছুটি নগদায়নের নতুন নিয়ম নির্ধারিত হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় পেনশনযোগ্য সর্বনিম্ন চাকরিকাল ৫ বছর থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে এই হার নির্ধারিত হবে। যেমন— ৫ বছর চাকরিতে মূল বেতনের ২১ শতাংশ, ১০ বছরে ৩৬ শতাংশ, ১৫ বছরে ৫৪ শতাংশ, ২০ বছরে ৭২ শতাংশ এবং ২১ থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত যথাক্রমে ৭৫, ৭৯, ৮৩ ও ৮৭ শতাংশ পেনশন পাওয়া যাবে। ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালে পেনশনের হার হবে মূল বেতনের ৯০ শতাংশ।
প্রজ্ঞাপনে অবসরভোগীদের নিট পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট স্লাব বা হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে এই হিসাব করা হবে। ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে ১০০ শতাংশ (যেমন: ৯ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া কেউ নতুন কাঠামোয় ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন), ৯,০০১ থেকে ২০,০০ টাকার মধ্যে ৭৫ শতাংশ, ২০,০০১ থেকে ৩০,০০ টাকার মধ্যে ৬৫ শতাংশ, ৩০,০০১ থেকে ৪০, হাজার টাকার মধ্যে ৬০ শতাংশ এবং ৪০,০০১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির বিধান করা হয়েছে।
নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাঁদের পেনশন তুলনামূলক কম, তাঁদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বেশি পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের ক্ষেত্রে শতকরা হার কিছুটা কম হলেও নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাঁদের নিট পেনশন বাড়বে। বর্তমানে কেউ যদি এই নতুন নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি নিট পেনশন পেয়ে থাকেন, তবে আগামী বছরের ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত তাঁদের বিদ্যমান নিট পেনশনই বহাল থাকবে।
































