রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তারেক রহমানের ৫ দফা আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তারেক রহমানের ৫ দফা আহ্বান ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৪০, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে বৈঠকটির আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজতে হবে। বাংলাদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ায় মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানের পাঁচ দফা প্রস্তাব
১. প্রত্যাবাসনের বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ

রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা বলেন তিনি।

২. মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ ও অধিকার নিশ্চিত

রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিজ দেশে নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হলে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা তৈরি করা কঠিন।

৩. মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা

রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালের জন্য ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা চাওয়া হলেও ২০২৬ সালের আবেদন প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

৪. ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা

টেকসই প্রত্যাবাসনের অন্যতম শর্ত হিসেবে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্ত ব্যবস্থাগুলোকে অব্যাহত সহায়তা এবং গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

৫. আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা

মাদকপাচার, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এসব অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

‘বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত থাকুক’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই দায়িত্ব অনির্দিষ্টকাল বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হলে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহের সঙ্গে বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement