পাকিস্তানের আকাশসীমার অনুমতি মেলেনি, পিছিয়ে গেল রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী ফ্লাইট

পাকিস্তানের আকাশসীমার অনুমতি মেলেনি, পিছিয়ে গেল রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী ফ্লাইট ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:০৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমান বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আসতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে জটিলতা কাটিয়ে আগামী ১ অক্টোবর জ্বালানি বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। নিরাপত্তা ও রুটসংক্রান্ত পরিস্থিতির কারণে সময়সূচিতে আবারও পরিবর্তন আসতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। এ ধরনের কার্গো বিমানকে যেসব দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করতে হয়, আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমতি নিতে হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানটির রুট ছিল কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশ। রাশিয়া ও বাংলাদেশ নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত যাত্রা শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়।

তবে পাকিস্তান ঠিক কী কারণে অনুমতি দেয়নি, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বা সরকারি চিঠিপত্র যথাসময়ে না পৌঁছালেও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণও এর পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরবর্তী সময়ে চীন ও মিয়ানমারের আকাশসীমা ব্যবহার করে কিংবা অন্য কোনো বিকল্প পথে রূপপুরের জ্বালানি দেশে আনার চেষ্টা হতে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সাতটি ফ্লাইটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটের জন্য মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জন্যও প্রয়োজনীয় কিছু জ্বালানি থাকবে।

প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে প্রায় দেড় বছর পর ওই জ্বালানির একটি অংশ পরিবর্তন করতে হবে। সে কারণে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও আগেভাগে দেশে আনা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া রূপপুরের জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।

নিরাপত্তার কারণে বিশেষ কার্গো বিমানে করে জ্বালানি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। বিমানবন্দর থেকে সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে তা পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট; অর্থাৎ মোট সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি একাধিকবার পিছিয়েছে। চলতি মাসে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

ত্রুটি মেরামতের জন্য রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসেছে এবং প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রাংশও দেশে আনা হয়েছে। তবে মেরামতের কাজ শেষ করে ঠিক কবে রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সময়সূচি পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement