বসুন্ধরা গ্রুপের সম্মাননা পেলেন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের ১৭ সাংবাদিক
Published : ১১:০৭, ৪ অক্টোবর ২০২৬
দেশ ও মানুষের কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি দিতে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের ছয়টি সংবাদমাধ্যমের ১৭ জন সাংবাদিককে পুরস্কৃত করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। জুন ২০২৬ মাসে প্রকাশিত মানসম্মত ও অনন্যসাধারণ প্রতিবেদনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের হাতে সনদ ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
শনিবার দুপুরে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং এবিজি (আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ)-এর চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষে বিজয়ী সাংবাদিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী এবং ডিএমডি—ফাইন্যান্স ইমরুল হাসান।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান জানিয়েছেন, গ্রুপের সংবাদমাধ্যমগুলোতে কর্মরত যেসব সাংবাদিক তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখবেন, তাঁদের মধ্য থেকে প্রতি মাসে ১২ জনকে ‘মাসসেরা সাংবাদিক’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। এই উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জুন ২০২৬-এর সেরা সাংবাদিকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠের সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক একরামুল হক ভূঁঞা (লোটন একরাম), নির্বাহী সম্পাদক আফাজ উদ্দিন বিপ্লব, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক এ কে এম মঞ্জুরুল হক, ডেইলি সানের সম্পাদক মো. রেজাউল করিম লোটাস এবং নিউজ২৪ টিভির হেড অব নিউজ শরিফুল ইসলাম খানসহ গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যেসব প্রতিবেদনের জন্য পুরস্কার
কালের কণ্ঠ থেকে জুন মাসের সেরা সাংবাদিক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন শিমুল মাহমুদ। তাঁর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘চরম দুরবস্থায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ: শিখন ঘাটতিতে ডাক্তারি ডিগ্রি’। সজীব আহমেদের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘এক রিচার্জে ১৮০-২০০ ডিজিট, বিপাকে গ্রাহক’। চট্টগ্রামের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার অনিক আখন্দ পুরস্কার পেয়েছেন ‘কর্তার দাপটে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের অফিস হয়ে গেল রেস্ট হাউজ, কেনাকাটায় অনিয়ম’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য।
বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে সম্মাননা পেয়েছেন ইলিয়াস সরকার, ইকরাম-উদ-দৌলা, আবির রহমান, জিএম মুজিবুর ও চট্টগ্রাম ব্যুরোর মিজানুর রহমান। তাঁদের প্রতিবেদনের শিরোনাম যথাক্রমে ‘মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কনডেম সেলে এক দশক: শিউলির পর এবার মুক্তি পাচ্ছেন মাশকুরা’, ‘১৫ বছর পর পর এনআইডি নবায়ন করতে হবে’, ‘কেপ ভার্দে-কুরাসাও পারলে বাংলাদেশ কেন পেছনে’, ‘ইট-পাথরের নগরে হারিয়ে যাচ্ছে পাখির আবাস, সংকটে বাস্তুতন্ত্র’ এবং ‘পাহাড় হারাচ্ছে চট্টগ্রাম, বাড়ছে ঝুঁকি’।
বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন শামীম আহমেদ, মাহবুব মমতাজী ও ইমরান রহমান। তাঁদের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল যথাক্রমে ‘কোটি টাকার কাগুজে গাছ দিচ্ছে না ছায়া!’, ‘অপরাধের কারখানা সোশ্যাল মিডিয়া’ এবং ‘ভয়ংকর জম্বি এখন বাংলাদেশে’।
ডেইলি সান থেকে সম্মাননা পেয়েছেন এহসানুল হক জসিম, আসাদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও মৌসুমী ইসলাম। এহসানুল হক জসিম ও আসাদুল ইসলামের প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘Environmental justice turns into a wild goose chase’। রফিকুল ইসলামের প্রতিবেদন ‘SDG deadlines loom, PWD workforce still untapped’ এবং মৌসুমী ইসলামের প্রতিবেদন ‘Can high rates revive investment?’।
নিউজ২৪ ও টি-স্পোর্টসের সংবাদকর্মীদের মধ্য থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন ও মোমিন রোহন। সাজ্জাদ হোসেনের প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘ঘুষের ফাঁদে প্রবাসীর স্ত্রী, তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে প্রতিমন্ত্রী’। টি-স্পোর্টসের মোমিন রোহনের প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘বাবা হাসপাতালের প্রহরী, ছেলে জাকির বাংলার উসাইন বোল্ট, নতুন কুঁড়ির সেরা বালক স্প্রিন্টার’।
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় গুরুত্ব
‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে বসুন্ধরা গ্রুপ’—এই স্লোগান সামনে রেখে বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী বলেন, প্রতি মাসেই এ সম্মাননা দেওয়া হবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সব সময় সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেন।
তিনি চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ঘোষণা তুলে ধরে বলেন, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি মাসে মানসম্মত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।
বসুন্ধরা গ্রুপের ডিএমডি—ফাইন্যান্স ইমরুল হাসান জানান, প্রতিটি সংবাদমাধ্যম থেকে সমানসংখ্যক ও মানসম্মত প্রতিবেদন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও নির্ধারিত কমিটি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে বিভিন্ন বিটের প্রতিবেদন যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্পাদকেরা এ উদ্যোগের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ধন্যবাদ জানান। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী কাজে উৎসাহিত করতে এ সম্মাননা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





























