বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থানের পথে গৌরীপুরের নারীরা

বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থানের পথে গৌরীপুরের নারীরা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

Published : ২২:৩০, ৩ অক্টোবর ২০২৬

পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সংকটে পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন মরিয়ম আক্তার রিয়ার। গৌরীপুরের একটি স্থানীয় মাদরাসায় আলিম শ্রেণিতে পড়ছেন তিনি। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। কৃষিকাজের সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হওয়ায় নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার লক্ষ্য নিয়ে সেলাই প্রশিক্ষণ নেন রিয়া। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে একটি সেলাই মেশিন পেয়েছেন তিনি। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরে বসে আয় করে পরিবারকে সহযোগিতা করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর।

রিয়ার মতো কাকলী রানী দাসের জীবনেও সেলাই মেশিন নিয়ে এসেছে নতুন আশার আলো। মা-বাবাকে হারানো কাকলী পাঁচ ভাই-বোনের পরিবারের একজন। তাঁদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিরা বেকার। দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে আসা কাকলীর জন্য সেলাই মেশিনটি ঘরে বসে আয় করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

মরিয়ম ও কাকলীর জীবনের গল্প ভিন্ন হলেও তাঁদের স্বপ্ন এক—নিজেদের শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে হাতে পাওয়া সেলাই মেশিন তাঁদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের গৌরীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জীবনসংগ্রামে এগিয়ে চলা ২০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে একটি করে সেলাই মেশিন ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেলিম আল রাজের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন শংকর ঘোষ পিলু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. হারুনুর রশিদ, গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ, গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুল্লাহ আল আমান, সাবেক আহ্বায়ক রইছ উদ্দিন, নান্দাইলের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামু এবং গৌরীপুর লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক পলাশ আজহারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি সময়োপযোগী। একটি সেলাই মেশিন নারীর আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে তাঁরা ঘরে বসে আয় করার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি মহৎ ও প্রশংসনীয়। একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং একজন নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ তৈরি করে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের হাতে মেশিন তুলে দেওয়ায় উদ্যোগটি আরও অর্থবহ হয়েছে।

প্রধান অতিথি ইমদাদুল হক মিলন বলেন, দরিদ্র পরিবারের নারীদের শুধু সেলাই মেশিন দেওয়া নয়, বরং এর মাধ্যমে তাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে একজন নারী নিজের পরিবারের জন্য আয় করার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিকতার শিক্ষা দেয়।

আয়োজকদের এ উদ্যোগে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে ২০ জন নারীর হাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সেলাই মেশিনগুলো কাজে লাগিয়ে তাঁরা ধীরে ধীরে আয় বাড়াতে পারবেন, পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাবেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement