আদালত প্রাঙ্গণে পরীমণির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ, ডিআরএফের নিন্দা
Published : ১৬:২৩, ৫ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংবাদিক ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ধাক্কাধাক্কি, হামলা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত পাঁচ সাংবাদিক আহত ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ)।
আহত ও হেনস্তার শিকার সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসেন রাজু, টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ, আগামীর সময়ের সিয়াম হোসেন এবং জাগো নিউজের আশিকুজ্জামান ও আব্দুল্লাহ আল কাউছার।
সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত প্রাঙ্গণে পরীমণি তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। আহত সাংবাদিকরা চিকিৎসা নিয়েছেন।

ডিআরএফের বক্তব্যে বলা হয়, একজন অভিনেত্রী হিসেবে পরীমণির আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা কিংবা নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে হেনস্তার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের আহত হওয়ার অভিযোগও উদ্বেগজনক।
সংগঠনটি মনে করে, সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ তাঁদের পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাতের পাশাপাশি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। ঘটনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ডিআরএফ।
ডিআরএফ অবিলম্বে পরীমণি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কেড়ে নেওয়া মোবাইল ফোনসহ সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি আহত সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।
ডিআরএফ আরও বলেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা কোনো ব্যক্তি, তারকা কিংবা প্রতিষ্ঠানের হাতে অপমান, হুমকি ও হামলার শিকার হবেন—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরীমণি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।






























