পরীমণির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীকে মারধর করে মাথা ফাটানোর অভিযোগ

পরীমণির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীকে মারধর করে মাথা ফাটানোর অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক

Published : ১৭:৪৫, ৫ নভেম্বর ২০২৬

আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেও নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমণি। এবার তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে এক বিচারপ্রার্থীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মারধর, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং আদালতকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

দেহরক্ষীদের হামলায় সুজন চন্দ্র নামের এক বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক জমিসংক্রান্ত মামলার কাজে বড় ভাইয়ের সঙ্গে আদালতে এসেছিলেন তিনি। সুজনের বড় ভাইয়ের অভিযোগ, আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় পরীমণির দুই দেহরক্ষী তাঁদের ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে সুজনের মাথায় আঘাত করা হলে রক্তপাত শুরু হয়। পরে উপস্থিত লোকজন তাঁকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে আদালতকক্ষের ভেতরেও পরীমণির দেহরক্ষীদের আচরণ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের পাশাপাশি কয়েকজন আইনজীবীকেও এজলাসে প্রবেশে বাধা দেন তাঁরা। এ নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও আইনজীবীরা প্রতিবাদ জানান। অতিরিক্ত ভিড় ও হট্টগোলের মধ্যেই অভিনেত্রীর জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে আদালত ভবনের নিচে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর এবং তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে। তবে পরে ফোনগুলো ফেরত পান সাংবাদিকরা।

এর মধ্যে গাড়িতে ওঠার সময় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন পরীমণি। এ নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান অভিনেত্রী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি কেবল ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন পরীমণি।

ঘটনার বিষয়ে পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত জানান, সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা মারধরের কোনো ঘটনা তিনি নিজে দেখেননি। তবে এমন কিছু ঘটে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে আদালতের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই আইনজীবী। তাঁর মতে, আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের আরও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাদা রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে আদালতে হাজির হন পরীমণি। এ সময় তাঁর সঙ্গে কালো পোশাক পরা ১১ জন দেহরক্ষী ছিলেন। কিছুক্ষণ গাড়িতে অবস্থানের পর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আদালত ভবনে প্রবেশ করেন তিনি।

তবে শুনানির নির্ধারিত আদালতকক্ষ খুঁজে পেতে কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েন অভিনেত্রী। প্রথমে ভুল আদালতকক্ষে প্রবেশ করেন। পরে আইনজীবীর সহকারীর নির্দেশনায় অন্য একটি আদালতকক্ষে যান। সেখানেও শুনানি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত একতলা নিচে নির্ধারিত এজলাসে পৌঁছান। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে সেখানে গিয়ে পেছনের বেঞ্চে বসেন তিনি।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আগের দিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় এদিন আত্মসমর্পণ করেন পরীমণি। তাঁর আইনজীবী আদালতকে জানান, অসুস্থতার কারণে আগের দিন হাজির হতে পারেননি অভিনেত্রী। শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৬ জুলাই পরীমণির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুনে ঢাকা বোট ক্লাবে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে নাসিরের দিকে গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও আনা হয়।

অন্যদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন পরীমণি।

নাসিরের করা মামলায় এর আগেও আদালতে অনুপস্থিত থাকার কারণে পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সেবারও পরদিন আত্মসমর্পণ করে জামিন পান অভিনেত্রী। এবারও পরোয়ানা জারির পরদিন জামিন পেলেন তিনি। তবে আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement