‘আমি যেতে চাই না’—বিদায়ী রাতে আবেগে ভেঙে পড়লেন মেসি

‘আমি যেতে চাই না’—বিদায়ী রাতে আবেগে ভেঙে পড়লেন মেসি ছবি: সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক

Published : ১১:১৬, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেললেন লিওনেল মেসি। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকার আবেগঘন বিদায়। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে একাধিকবার আবেগে থেমে যায় তার কণ্ঠ।

দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মেসি প্রথমেই তার বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর ফিরে দেখেন জাতীয় দলের হয়ে দুই দশকের বেশি সময়ের পথচলা—সাফল্য, ব্যর্থতা, সমালোচনা ও কঠিন সময়ের নানা অধ্যায়।

মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সি পরতে পারা তার জন্য ছিল বিশাল সম্মানের। কঠিন সময়েও তিনি কখনো লড়াই থামাননি এবং দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত যে তার জন্য সহজ নয়, সেটিও স্পষ্ট করেন তিনি। মেসির ভাষায়, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তবে দীর্ঘ পথচলার পর এখন সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে বলেই মনে করছেন তিনি।

বিদায়ী বক্তব্যে সতীর্থদের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা জানান মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফাইনালিসিমার মতো শিরোপা জয়ের পেছনে সতীর্থদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে খেলতে পারা তার জন্য ছিল বড় সম্মানের।

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভালোবাসার কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন মেসি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খেলতে গিয়ে প্রতিটি স্টেডিয়ামে পূর্ণ গ্যালারি ও সমর্থকদের আবেগ তাকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছে, সে কথাও জানান তিনি।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনায় ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্মৃতিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন মেসি। সেই দিনের ভিডিও এখনো দেখলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলেও জানান।

তবে একই মনুমেন্তালে এবার বিদায়ের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে অনুভূতিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মেসি বলেন, জাতীয় দলের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার দিনটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি।

মাঠে আর না থাকলেও আর্জেন্টিনা দলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে গ্যালারিতে বসে সতীর্থদের সমর্থন করার কথা জানিয়ে দলের ঐক্য ধরে রাখার ওপর জোর দেন মেসি।

তার মতে, আর্জেন্টিনা যখন ঐক্যবদ্ধ থাকে, তখন যেকোনো বাধা অতিক্রম করার শক্তি তাদের থাকে। ভবিষ্যতে কঠিন সময় এলেও দলের সবাইকে একে অপরের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিদায়ী বক্তব্যের শেষদিকে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। কণ্ঠ ভারী করে বলেন, ‘আমি যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছাড়তে চাই না।’

শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আর্জেন্টাইন পরিচয় নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন তিনি। তার বিদায়ী বার্তার শেষ কথাগুলো ছিল ভালোবাসায় ভরা—সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, তিনি তাদের ভালোবাসেন এবং ভীষণ মিস করবেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement