রাজশাহীতে ধান কাটা-মাড়াই শুরু, ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
Published : ০২:২০, ৬ মে ২০২৬
রাজশাহী অঞ্চলে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই। বিস্তীর্ণ বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন সোনালি ধানের সুবাসে মুখর মাঠ-ঘাট, আর ভালো ফলনের আশায় খুশি কৃষকরা।
তীব্র গরম ও রোদের মধ্যেও কৃষকরা পুরোদমে ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ধান কাটার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলেও বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জোরেশোরে চলছে এই কর্মযজ্ঞ, যা পুরো মে মাসজুড়ে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলা এবং মহানগর এলাকার বোয়ালিয়া ও মতিহার অঞ্চলে মোট ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবার মোট ৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪ দশমিক ৭০ মেট্রিক টন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবার ধানের জাতেও দেখা গেছে বৈচিত্র্য। কৃষকরা প্রায় ৩৫টি ভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন, যার মধ্যে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান ও আধুনিক হাইব্রিড জাতের আধিক্য রয়েছে। এতে রোগবালাই কমার পাশাপাশি ধান কাটার সময় ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ শতাংশ ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে ফলন মোটামুটি হলেও মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফলন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই কৃষকরা কাস্তে ও যন্ত্র নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছেন। কোথাও সনাতন পদ্ধতিতে কাস্তে দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে, আবার কোথাও কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ধান মাড়াই শেষে তা শুকানো ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণীরাও।
পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্বিঘ্নে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তারা।
জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। মে মাসের শেষ নাগাদ অধিকাংশ ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মিতা সরকার বলেন, গত সপ্তাহ থেকেই ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং কৃষকরা ভালো ফলনে সন্তুষ্ট। বাকি ধানগুলোতেও আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



































