জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ভাষণ দেন । ছবি : পিএমও

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০৩:১২, ১১ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের আস্থা অর্জন, মানবিক পুলিশিং নিশ্চিত করা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তিনি বলেন, “পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়। বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবে সেটিই হবে পুলিশের প্রকৃত সাফল্য। আর পুলিশের সাফল্য মানেই সরকারের সাফল্য।”

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। থানায় এসে সাধারণ মানুষ যেন পুলিশের আচরণে রাষ্ট্রের মালিকানার অনুভূতি পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না। তাই থানায় যাওয়ার পর মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি হওয়া জরুরি যে, সেখানে গেলে তার বিপদ কমবে।”

তারেক রহমান বলেন, “পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা ও নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে মানুষ যেন থানাকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে মনে করতে পারে।”

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে পুলিশই সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুলিশ যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, বরং জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রথম দ্বার।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের দলীয় স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। জনগণের বিশ্বাস অর্জন ও তা ধরে রাখাই বর্তমানে পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন আধুনিক ও মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি, সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৃহৎ তথ্য বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক সুবিধা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “গুম, অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

পুলিশ সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসন, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয় সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মাদক, সন্ত্রাস, অনলাইন জুয়া, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু ব্যবহারকারী নয়, মাদক সরবরাহকারী ও উৎসকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।”

তিনি বলেন, “জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। তাই কমিউনিটি পুলিশিং ও উন্মুক্ত সভার মতো জনমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কাজে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”

সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কখনও পিছপা হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেও নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে সরকারের সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, “অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শকআলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement