কোরবানির পশু পালন এখন প্রান্তিক খামারিদের বড় অর্থনৈতিক ভরসা : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
Published : ০৪:২৬, ২৭ মে ২০২৬
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে কোরবানির পশু পালন এখন দেশের প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের অন্যতম বড় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নেউরা পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু পালন ও বিক্রির মাধ্যমে দেশের লাখো পরিবার আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ধীরে ধীরে এ খাত শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নিচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারি ও কৃষকরা দীর্ঘ সময় ধরে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ লালন-পালন করে বাজারজাত করেন। ফলে কোরবানির মৌসুম তাদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকার প্রান্তিক খামারিদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে দেশে বাণিজ্যিক পশুপালনের প্রবণতা বাড়ছে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হচ্ছে।
পশুর হাটে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে। হাটগুলো পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। তারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করছে। পাশাপাশি খামারি ও ব্যাপারিদের সার্বিক সহায়তায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, নিরাপত্তাহীনতা বা অব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জাল নোট প্রতিরোধে বিভিন্ন হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা নিরাপদে লেনদেন করতে পারেন।
মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পশুর হাটগুলোর পরিস্থিতি তদারকি অব্যাহত থাকবে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে পারেন।
এ সময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহে আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



































