স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
Published : ০১:১৮, ১৩ মে ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতি গঠন ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ টেকসই করা সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “রাজনীতি শুধু রাজপথে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, এটিকে সংসদ ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় নিয়ে যেতে হবে। দেশ গঠনে আলোচনা, চিন্তা ও স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।”
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাষা দক্ষতা আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের পরিকল্পনা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন।
চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী কাবেরী আজাদ শিল্পীদের শিল্পবাজার সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল খাতকে এগিয়ে নিতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ অপরিহার্য।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোবাশেরুজ্জামান হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, কর্মসংস্থান ও সরকারি চাকরিতে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রধানমন্ত্রী অতীতের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে সরকার তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার না হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন, লাইব্রেরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অনেক সমস্যার সমাধান করা যেত।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে দুর্নীতি ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে শুধু আইন নয়, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাংকিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকদের নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের পরিবর্তে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। গবেষণা ও প্রকাশনার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
বাংলা ভাষা ও ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার বিষয়ে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষার চর্চা পরিবার থেকেই শুরু হয়। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।



































