গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:৪৮, ১৩ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, অটোমেশন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার নিরাপত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও ন্যানো প্রযুক্তির মতো আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের কর্মসংস্থান ও চিন্তার জগতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।

তিনি বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষা দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা সম্ভব নয়। গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ছাড়া উচ্চশিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গবেষণা, প্রকাশনা, উদ্ভাবন ও সাইটেশনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। এ বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণামুখী হতে হবে।

তিনি বলেন, মুখস্থবিদ্যা ও সনদনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে দক্ষতা ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা চালু করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বের হলেও অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। এর অন্যতম কারণ হলো একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ঘাটতি।

তিনি জানান, সরকার উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষানবিশ, প্রশিক্ষণ এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমন্বিত কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণাকে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তিতে ‘সিড ফান্ড’ ও ‘ইনোভেশন অনুদান’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং বিজ্ঞান পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান মেলা, উদ্ভাবনী মেলা ও পণ্য প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে উৎসাহ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখাও জরুরি। তিনি শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের এ বিষয়ে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে সাবেক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা করেন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষা, যোগ্যতা, গবেষণা ও সৃজনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেন মামুন আহমেদ।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং ইউজিসি সচিব ফখরুল ইসলাম।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement