আজ থেকেই ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্তে ডিএমপির অভিযান
Published : ০৮:৪৮, ১ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনদুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে কঠোর অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ট্রাফিক বিভাগের আটটি অঞ্চলের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে এই অভিযান শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা মহানগরীর সড়কের পাশে যেসব দোকান পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অবৈধ দখলের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসন করতেই এ কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এই অভিযান সাধারণ হকারদের লক্ষ্য করে নয়; বরং সেই সব সচ্ছল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে, যারা সড়কের ওপর রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর বা স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলে জনপথ দখল করে রেখেছেন। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ সীমার বাইরে ফুটপাত দখল করে কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেগুলো দখলমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থানে শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ, আসবাবপত্র ও পোশাকের দোকানগুলো তাদের কার্যক্রম ফুটপাত ও মূল সড়ক পর্যন্ত সম্প্রসারণ করেছে। রেস্টুরেন্টের রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল বা কাবাব তৈরির যন্ত্র, ওয়ার্কশপের টায়ার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ এবং আসবাবপত্র সড়কের ওপর রাখার কারণে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো প্রায়ই ফুটপাত ও সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করে থাকে। এতে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং একই সঙ্গে সৃষ্টি হয় কৃত্রিম যানজট।
ডিএমপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের দ্রুত মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় আগামীকাল থেকে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরবাসীর স্বার্থ বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারে।
বিডি/এএন



































