তিন দিনে ১৮ হাজার টনের বেশি কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছে ডিএনসিসি
Published : ১৩:২১, ৩১ মে ২০২৬
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ঈদুল আজহা উপলক্ষে গৃহীত বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় তিন দিনে ১৮ হাজার ৩৪৪ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮২৭টি ট্রিপের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৫৩ টন কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা হয়েছে।
শনিবার গুলশানে ডিএনসিসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টার সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় নগরবাসী, গণমাধ্যমকর্মী এবং ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উত্তর সিটি এলাকার কোরবানির বর্জ্য প্রায় সম্পূর্ণ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসক জানান, ডিএনসিসির ইজারাকৃত ১০টি পশুর হাটের মধ্যে চারটির বর্জ্য শতভাগ পরিষ্কার করা হয়েছে। বাকি ছয়টি হাটের বর্জ্য অপসারণের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, ঈদের তৃতীয় দিনেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে কোরবানি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নতুন করে বর্জ্য তৈরি হলেও তা দ্রুত অপসারণে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে। এজন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উত্তর ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোরবানির বর্জ্যের পাশাপাশি নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক অভিযোগ করেন, মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি নগরবাসী ও গণমাধ্যমকে এসব তথ্য যাচাই করে প্রচারের আহ্বান জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির ৭৫২টি যানবাহন কাজ করেছে। কিছু যানবাহনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসির দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত কোরবানির বর্জ্য নয়, বরং নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ৭২ ঘণ্টার বিশেষ কর্মসূচি শেষে রোববার সকাল থেকে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সচিব মামুনুর রহমানসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



































