প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, গড়ে তোলা হবে আধুনিক ‘প্রবাসী সিটি’

প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, গড়ে তোলা হবে আধুনিক ‘প্রবাসী সিটি’ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:৫০, ১১ জুন ২০২৬

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধাসম্পন্ন ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, আবাসন ও বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় আইনি সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

বুধবার জাতীয় সংসদে এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চালু হতে যাওয়া ‘প্রবাসী কার্ড’ ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজে দেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রবাসীদের আবাসন সুবিধা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে পূর্বাচলে একটি ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া রাজধানীর গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের জমিতে প্রবাসীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত এক বছরে প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা, প্রতিবন্ধী সন্তানদের ভাতা, বিমা দাবি নিষ্পত্তি, বিদেশফেরত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ এবং মৃত কর্মীদের লাশ পরিবহন ও দাফন ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরকার বিদেশফেরত প্রায় আড়াই লাখ কর্মীর পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় ১০টি দেশের আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ এবং ওমানের মাস্কাটে নারী কর্মীদের জন্য তিনটি সেফ হোম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে দেশে টোল-ফ্রি কল সেন্টার ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে যোগাযোগের জন্য বিশেষ হটলাইন চালু রয়েছে।

নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে বিদেশস্থ মিশনগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকার অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রতারণা রোধ এবং প্রবাসীদের মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement