পদ্মায় নৌকাডুবিতে মায়ের কোলে ২০ দিনের নবজাতক, ভেসে গেলেন ভারতীয় জলসীমায়; বিএসএফের হাতে উদ্ধার
Published : ১২:০৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভরা পদ্মা। বিকেলের দমকা হাওয়ায় মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে নদীর ঢেউ। সেই উত্তাল জলরাশির মধ্যেই মায়ের কোলে করে বাড়ি ফিরছিল মাত্র ২০ দিনের নবজাতক তানিশা। কিন্তু নিরাপদে ঘরে ফেরার সেই যাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় ভয়াবহ আতঙ্কে।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী থেকে জোহরপুর-টেকের দিকে যাওয়ার পথে পদ্মা নদীতে হঠাৎ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
নৌকাটিতে ছিলেন ১২ জন যাত্রী। তাদের মধ্যে ছিলেন সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতি এবং তাদের মাত্র ২০ দিন বয়সী সন্তান তানিশা।
নৌকা ডুবে যাওয়ার পর উত্তাল পদ্মার স্রোতে ছিটকে পড়েন যাত্রীরা। তানিশাকেও মায়ের সঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যায় স্রোত।
ভেসে যেতে যেতে তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশি একপর্যায়ে ভারতের জলসীমায় পৌঁছে যান। সেখানে তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগরের বাসিন্দা শ্যামলাল মণ্ডল পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।
তিনি জানান, বিএসএফ সদস্যরা নদী থেকে বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। এ সময় মাত্র ২০ দিনের তানিশা প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।
পরে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর স্বস্তির খবর আসে—তানিশা সুস্থ আছে।
নৌকাডুবির পর একদিকে স্বজনদের নিয়ে উৎকণ্ঠা, অন্যদিকে নবজাতক তানিশার কী হয়েছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর রাতে আসে স্বস্তির খবর। বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, তানিশাসহ উদ্ধার হওয়া বাকি নয় বাংলাদেশিও সুস্থ অবস্থায় রাতে দেশে ফিরেছেন।
মাত্র ২০ দিনের তানিশা হয়তো জানেই না, জীবনের শুরুতেই তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে ভয়াবহ এক পরীক্ষা। মায়ের কোলে নিরাপদে ঘরে ফেরার কথা ছিল যে শিশুটির, উত্তাল পদ্মার স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সীমান্তের ওপারে।
শেষ পর্যন্ত বিএসএফের তৎপরতা, মানুষের মানবিক সহায়তা এবং ভাগ্যের সহায়তায় আবারও মায়ের কোলে ফিরেছে তানিশা।
তানিশার ফিরে আসা শুধু একটি শিশুর বেঁচে ফেরার গল্প নয়; এটি উত্তাল পদ্মার বুকে হারিয়ে যেতে বসা একটি পরিবারের নতুন করে বেঁচে ওঠার গল্প।
































